কলেজের ইতিহাস


ফেনী শহরের পশ্চিম প্রান্তে, মহীপাল চত্বর থেকে পূর্বদিকে, এস.এস.কে সড়কের উত্তরপ্বার্শে হাজারো গাছ-গাছালির ছায়ায় ঢাকা, নানান জাতের পাখ-পাখালির কল-কাকলিতে মুখরিত, এক মনোলোভা মনোরম পরিবেশে আপন মহিমায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সরকারি জিয়া মহিলা কলেজ।

কলেজ প্রতিষ্ঠার সাথে যাদের নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত তাঁরা হলেন ফেনীর রাম্পুরের অধিবাসী শ্রদ্ধেয় আব্দুস সাত্তার, বিশীষ্ট সমাজসেবী এবং ফেনীতে নারী শিক্ষার অগ্রদূত মরহুমা রোকেয়া আজিজ (ফেনী জেলা পরিষদ প্রশাসক শ্রদ্ধেয় আজিজ আহাম্মদ চৌধুরীর সহধর্মিনী) ও কাজী আনোয়ারা হোসেন। এই মহান সংগঠকদের সক্রিয় উদ্যোগ এবং ফেনীর শত শত মানুষের আর্থিক ও নৈতিক সমর্থনে গড়ে উঠেছিল ফেনী মহিলা কলেজ।

০৮/০৯/১৯৮০ইং তারিখে ফেনীর ঐতিহাসিক রাজাঝির দিঘির পূর্ব পাড়ে পাবলিক লাইব্রেরীর দোতলায় কলেজটির শুভ উদ্বোধন হয়। পাবলিক লাইব্রেরী ০২টি এবং ফেনী ক্লাবের ০২ টি কক্ষের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮০/৮১ শিক্ষাবর্ষ থেকে মাত্র ০৮জন ছাত্রী নিয়ে এই কলেজের শুভ যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮০ সালে তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আট লক্ষ টাকাসহ ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যাক্ত জায়গা থাকে ০২ একর ৪৫ শতাংশ জমি কলেজের নামে বরাদ্দ দেন এবং এখানেই স্থাপিত হয় দ্বিতল বিশিষ্ট নতুন ভবন। ১৯৮১ সালের ৩০মে প্রেসিডেন্ট জিয়া শহীদ হন। কলেজের নতুন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মরহুমের অসীম অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংগঠনিক কমিটি কলেজের নামকরণ করে সরকারি জিয়া মহিলা কলেজ। ১৯৮২ সালে নতুন ভবনে কলেজের শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে কলেজ ক্যাম্পাসে যুক্ত হয় চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, ক্যান্টিন, শহীদ মিনার, ছাত্রী নিবাস। ১৯৮৬ সালে তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ফেনী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় কলেজটিকে জাতীয়করণ করার ঘোষনা দেন এবং পরের বছর অর্থাৎ ১৯৮৭ সালে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়। 


Powered By: PENTAGRAM IT